১৭ এপ্রিল পীরগঞ্জ গণহত্যা দিবস

মো: আবুল কালাম আজাদ, নিজস্ব প্রতিবেদক :

১৭ এপ্রিল পীরগঞ্জ গণহত্যা দিবস, ঠাকুরগাঁও জেলার (তৎকালীন দিনাজপুর জেলার আওতাধীন মহকুমা) পীরগঞ্জ উপজেলা (তৎকালীন থানা) গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করা হয়। মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রারম্ভে ৭০’র সাধারণ নির্বাচনে নির্বাচিত সকল এম.এন.এ. ও এম.পি.দের কুষ্টিয়া জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অনুষ্ঠিত অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে যুদ্ধ পরিচালনা ও পাক হানাদার বাহিনীকে আমাদের স্বদেশ ভূমি থেকে বিতাড়িত করার জন্য এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত ও নির্দেশিত পথে মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের জন্য মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয়।

মুজিবনগর সরকার গঠনের পরে তৎকালীন কুষ্টিয়া জেলা হানাদার মুক্ত হওয়ায় মেহেরপুর মহাকুমার বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকার আনুষ্ঠানিক ভাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-কে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলাম কে উপ-রাষ্ট্রপতি, তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী, ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলীকে অর্থমন্ত্রী এবং এ.এইচ.এম. কামরুজ্জামান-কে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, খন্দকার মোশতাক-কে পররাষ্ট্র মন্ত্রী করে পঞ্চাশ টি রাষ্ট্রের সাংবাদিক সামনে রেখে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে, রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান এর অনুপস্থিতিতে উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দ্বায়িত্ব নিয়ে মানচিত্র খচিত লাল সবুজের জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে এই সরকারের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন।

তৎকালীন কর্নেল এম.এ জি. ওসমানী-কে প্রধান সেনাপতি নিযুক্ত করা হয়।পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের পর বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন এবং নবগঠিত সরকার-কে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর অনৃপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী  তাজউদ্দিন আহমেদ ও প্রধান সেনাপতি কর্নেল  এম.এ   জি ওসমানী বক্তব্য রাখেন। মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত সংসদের নেতৃত্বে একটি সাংবিধানিক সরকার বিশ্বে আত্মপ্রকাশ করে। সে সংবাদ প্রচারের পরথেকেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ন্যায় উত্তরের তৎকালীন দিনাজপুর জেলার আওতাধীন মহকুমা ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ থানার সম্মুখসারীর সূর্য সন্তানদের শহর ও বাসা থেকে তুলে নিয়ে শহরের অদূরে ৩নং খনগাঁও ইউনিয়ন এর আওতাধীন ভাতারমারি ফার্ম নামক স্থানে অমানবিক নির্যাতন করে হত্যাযজ্ঞ চালায়। তাদের পাশবিক, অমানবিক, নির্মম/নির্বিচার অত্যাচারে শাহাদাৎ বরণ করেন… শহীদ ডা. সুজাউদ্দীন আহমেদ, শহীদ বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা, শহীদ মোজাফফর হোসেন, শহীদ আব্দুল জব্বার, শহীদ আতিউর রহমান, শহীদ সুনীল কুমার শীল, শহীদ মলিন সূত্রধর, শহীদ বীরেন্দ্র কুমার শীল সহ নাম না জানা অনেকে… গণহত্যায় শহীদদের স্মরণে ভাতারমারী ফার্মের সে স্থানে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়েছে। সকল শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, সকলের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি, মহান আল্লাহ সকল শহীদদের বিদেহী অঅত্মাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *