ওমিক্রন: কড়াকড়ি এড়িয়ে অর্থনীতি সচল রাখার চেষ্টায় বিশ্ব

ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেক্স :

কয়েকদিন ধরে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে করোনাভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণ আবারও দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে। বুধবার (২৯ ডিসেম্বর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য বলছে, আগের সাত দিন বিশ্বব্যাপী ওমিক্রন ছড়িয়েছে অনেকটা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে। তবে একই সময়ে আগের মতো অতিরিক্ত কড়াকড়ির পথে না গিয়ে বরং বিধিনিষেধ শিথিল করে অর্থনীতি সচল রাখার চেষ্টা করছে বেশিরভাগ দেশ।গত ২২ ডিসেম্বর থেকে ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে দৈনিক গড়ে প্রায় নয় লাখ মানুষ করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন।

 

 

আগের ২৪ ঘণ্টায় আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, বলিভিয়া, যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের একাধিক দেশে সর্বকালের সর্বোচ্চ দৈনিক সংক্রমণ রেকর্ড হয়েছে।বেশিরভাগ গবেষণা বলছে, করোনাভাইরাসের আগের ধরনগুলোর তুলনায় ওমিক্রন কম বিপজ্জনক। তবে অনেক দেশে যে হারে মানুষ করোনা পজিটিভ শনাক্ত হচ্ছেন এবং তারাসহ তাদের সংস্পর্শে আসা যত মানুষকে আইসোলেশন-কোয়ারেন্টাইনে রাখা হচ্ছে, তাতে বহু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তীব্র কর্মী সংকটে পড়তে পারে।বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বিপুল সংখ্যক মানুষ কর্মক্ষেত্র থেকে দূরে থাকা অর্থনীতির ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলবে। এই সংকট মোকাবিলায় করোনা পজিটিভ শনাক্ত বা এ ধরনের রোগীদের সংস্পর্শে যাওয়া লোকদের কোয়ারেন্টাইনের সময় কমানোর চিন্তাভাবনা করছে অনেক দেশ।গত বুধবার স্পেন জানিয়েছে, তারা কোয়ারেন্টাইনের সময় ১০ দিন থেকে কমিয়ে সাত দিন করছে। ইতালি বলেছে, করোনা পজিটিভদের সংস্পর্শে যাওয়া লোকদের আইসোলেশনের সময়সীমা কমানোর চিন্তা চলছে।

 

 

 

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ নতুন নির্দেশিকা জারি করে ঘোষণা দেয়, নিশ্চিত করোনায় আক্রান্তদের আইসোলেশনের সময় ১০ দিনের বদলে পাঁচ দিন হবে, যদি তারা উপসর্গহীন হয়।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান তেদ্রস আধানম গ্যাব্রিয়েসুস বুধবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেছেন, আমি খুব চিন্তিত।

 

 

ওমিক্রন অতিসংক্রামক হয়ে উঠছে এবং ডেল্টার মতো ছড়িয়ে পড়ছে। এটি আমাদের করোনা সংক্রমণের সুনামির দিকে নিয়ে যাচ্ছে।ফরাসি স্বাস্থ্যমন্ত্রী অলিভিয়ার ভেরান বলেছেন, ফ্রান্সে ‘মাথা ঘুরে যাওয়ার মতো’ দৈনিক সংক্রমণ ধরা পড়ছে। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে সেখানে ২ লাখ ৮ হাজার মানুষ করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন, যা দেশটির তো বটেই, গোটা ইউরোপেরও রেকর্ড।যুক্তরাজ্য, ইতালি, স্পেন, পর্তুগাল, গ্রিস, সাইপ্রাস, মাল্টা- সব দেশেই মঙ্গলবার রেকর্ড সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। রয়টার্সের হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্রে বিগত সাত দিন দৈনিক গড়ে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৩১২ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, যা স্থানীয় রেকর্ড।

 

 

দেশটিতে এর আগে একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্ত ছিল ২ লাখ ৫০ হাজার ১৩১ জন, যা রেকর্ড হয়েছিল গত জানুয়ারিতে।তবে মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) পরিচালক রোচেল ওয়ালেনস্কি বুধবার বলেছেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়লেও সেই তুলনায় মৃত্যু ও হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা বেশ কম। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রে গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে দৈনিক সংক্রমণের হার ৬০ শতাংশ বাড়লেও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়েছে ১৪ শতাংশ।

 

 

 

একই সময়ে মৃত্যু বেড়েছে মাত্র সাত শতাংশ।অবশ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ উপসর্গহীন রোগীদের জন্য সিডিসির নতুন নির্দেশিকার কড়া সমালোচনা করেছেন।গত বুধবার যুক্তরাজ্য ১ লাখ ৮৩ হাজার ৩৭ জন নতুন করোনা রোগী শনাক্তের রেকর্ড গড়েছে, যা তার আগের দিনের চেয়ে অন্তত ৫০ হাজার বেশি। বুধবার আয়ারল্যান্ডেও একদিনে রেকর্ড ১৬ হাজারের বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে।

 

 

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, তিনি চলতি বছর নতুন করে কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করবেন না। যদিও দেশটিতে প্রায় ৯০ শতাংশ সাম্প্রদায়িক সংক্রমণে ওমিক্রন শনাক্ত হচ্ছে।মহামারিকালে অস্ট্রেলিয়ার দৈনিক সর্বোচ্চ সংক্রমণ রেকর্ড হয়েছিল গত মঙ্গলবার। সেদিন প্রায় ১১ হাজার ৩০০ জন করোনা পজিটিভ শনাক্ত হন।

 

 

কিন্তু এর একদিন পরেই সেই রেকর্ড ভেঙে দেশটিতে ১৮ হাজারের বেশি নতুন সংক্রমণের খোঁজ পাওয়া যায়।সংক্রমণ বাড়ায় স্পেনে ফ্রি টেস্টিং কিটের ব্যাপক চাহিদা দেখা দিয়েছে। চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কিট সরবরাহ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে মাদ্রিদ সরকার।

 

 

ফার্মেসিগুলোর সামনে কিটের জন্য মানুষের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।করোনাভাইরাসে ভুক্তভোগীদের সংস্পর্শে যাওয়ায় বিপুল সংখ্যক মানুষের বাধ্যতামূলক আইসোলেশন অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে চিন্তা বাড়ছে সরকারের।অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন সাংবাদিকদের বলেছেন, শুধু একটি নির্দিষ্ট সময় নির্দিষ্ট জায়গায় ছিল বলে আমরা সবাইকে কাজকর্ম থেকে বের করে দিতে পারি না।

 

 

এসময় টেস্টিং সাইটগুলোর ওপর চাপ কমাতে দ্রুত করোনা পরীক্ষার নীতিতে পরিবর্তন আনার আহ্বান জানান তিনি।একই সংকটে স্পেন ও ইতালি আইসোলেশন নীতি শিথিলের পথে হাঁটলেও এখনো ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অটল চীন।

 

 

রোজ নতুন সংক্রমণ পাওয়া যাওয়ায় সাত দিনের বেশি সময় ধরে লকডাউনে রয়েছে দেশটির শানজি প্রদেশের রাজধানী জিয়ান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *