এই সরকার নিশিরাতের সরকার, নির্বাচিত সরকার নয় —ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল

এই সরকার নিশিরাতের সরকার, নির্বাচিত সরকার নয় —ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঠাকুরগাঁও :

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই সরকার নিশিরাতের সরকার, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার নয়। ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যখন দেখলেন কোন মতেই বিএনপিকে ঠেকানো যাচ্ছে না, ওই রাতেই পুলিশকে ব্যবহার করে, র‌্যাবকে ব্যবহার করে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে তিন দিন আগে থেকে সমস্ত নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে, আগের রাতে ভোট করে নিয়ে নেন তারা।

জনগণের সাথে এই সরকারের কোন সম্পর্ক নেই বলে জানান তিনি।

 

 

বৃহস্পতিবার (৩০ ডিসেম্বর) শেষ বিকালে ঠাকুরগাঁও পাঠাগার চত্বরে জেলা বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে সুচিকিৎসার দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করেছিলাম কোন একটা ব্যক্তি বিশেষকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য বা একটা দলকে ক্ষমতায় নেওয়ার জন্য, আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় নেওয়ার জন্য, না আমরা যুদ্ধ করেছিলাম মানুষকে মুক্তি দেওয়ার জন্য। আমরা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পাবো, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র পাবো, গণতান্ত্রিক সমাজ পাবো, সে জন্যই আমরা যুদ্ধ করেছিলাম।

 

 

তিনি আরও বলেন এমন কাজ করেছে সরকার রাষ্ট্র যন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান র‌্যাব, পুলিশ তাদের প্রধানদেরকে আমেরিকা নিশেধাজ্ঞা জারি করেছে। এভাবে তারা সমস্ত প্রতিষ্ঠান গুলোকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এই সরকারকে তারাতারি বিদায় করতে না পারলে, এদেশের মানুষ নিরাপত্তা পাবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। এই সরকার জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, এই সরকারকে বিদায় করতে না পারি, তাহলে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হবে। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন দেশনেত্রী এবং দলের প্রতি যে ভালোবাসা সেজন্যই আপনারা ছুটে এসেছেন।

 

 

 

তিনি বলেন, সারাদেশে আমাদের গণতন্ত্রকামী মানুষ, ৩৫ লক্ষ্য মানুষের বিরুদ্ধে মামলা। ইলিয়াস আলীসহ আমাদের ৫’শ নেতাকর্মী গুম হয়ে গেছে। হাজার হাজার মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে। ঠাকুরগাঁও সদরে সাড়ে ৭ হাজার মানুষের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু দমাতে দমাতে পারেনি।

 

 

খালেদা জিয়ার জন্য সারাদেশের মানুষ কাঁদছে, সারাদেশের মানুষ উত্তাল হয়ে উঠেছে। এই নেত্রী সেই নেত্রী, ১৯৭১ সালে যখল শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষনা করলেন, তখন ঘরে ছিলেন না, বাইরে। তখন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ক্যান্টনমেন্টের একটি বাসায় দুই শিশু পূত্রকে নিয়ে বাসায় ছিলেন।

 

 

 

অষ্টম বেঙ্গলের সেনারা চলে এসে বলেছিল, পাকিস্তানিরা বলেছে আমাদের অস্ত্র সমার্পন করতে, আমরা অস্ত্র সমার্পণ করবো কি না ? তখন তিনি বলেছিলেন তোমাদের অধিনায়ক মেজর জিয়ার নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত কোন অস্ত্র সমার্পণ করবে না। সে দিন থেকেই এই যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। সে জন্যই খালেদা জিয়াকে প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা বলা হয়েছে। এতে আওয়ামী লীগের লোকেরা খবুই বেজার। তাদের ভিশন মন খারাপ, বকাবকি শুরু করলো।

 

 

 

অবশ্যই তিনি মুক্তিযোদ্ধা বলে দাবী করেন মির্জা ফখরুল।এতে উপস্থিত ছিলেন বিশেষ অতিথি হিসেবে ব্যারিষ্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব, কামরুজ্জামান রতন, আব্দুল খালেক, সাবেক ছাত্র নেতা ফরাদুল ইসলাম আজাদ এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ জেলা বিএনপি’র সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা তৈমুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সাল আমিনসহ দলটির অংগ-সংগঠনের দলীয় নেতাকর্মীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *