প্রবাসীদের টাকায় লেগে আছে ঘাম ও অশ্রু”আব্দুর রহিম
মারুফ সরকার: নোয়াখালী সোনাইমুড়ির কৃতি সন্তান বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সমাজসেবক কলামিস্ট রেমিটেন্স যোদ্ধা প্রবাসী আব্দুর রহিম খান। জীবনের অর্ধেক টা সময় কাটিয়ে দিয়েছেন প্রবাসের। দীর্ঘদিনের প্রবাসে থাকার অভিজ্ঞতায় জানিয়েছেন আমাদের।একদম সরল উক্তিতে আব্দুর রহিম বলেন বিদেশে আছি। দেশের জন্য মনটা সবসময় উচাটন থাকে। দেশের ভালো খবরে উৎফুল্ল হই, খারাপ খবরে মনটা বিষণ্ণ হয়ে যায়। তিনি বলেন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পিছনে তিনটি সেক্টরের গভীর অবদান রয়েছে৷ এগুলো হলো গার্মেন্টস, সেবা এবং অভিবাসন খাত৷ ২০৩২ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ২৫টি বড় অর্থনীতির দেশের একটি হবে—এই তথ্য যে চমকপ্রদ, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ২০৩৩ সালের মধ্যে আমাদের পেছনে থাকবে সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশগুলো—এটা ভাবলে যুগপৎ বিস্মিত ও রোমাঞ্চিত হতে হয়। তবে সেন্টার ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চের (সিইবিআর) মতো যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান যখন এসব আশাবাদের কথা শোনায়, তখন ব্যাপারটাকে আর অবিশ্বাস্য মনে হয় না। তা ছাড়া, আগামী ১৫ বছরে বাংলাদেশ ১৭টি দেশকে পেছনে ফেলে যেতে পারে বলে যে ভবিষ্যদ্বাণী করা হচ্ছে, তাকে উড়িয়ে দেওয়ার তো উপায় নেই। কারণ, এই দেশটিই গত ১৫ বছরে টপকে এসেছে তার চেয়ে এগিয়ে থাকা ১২টি দেশকে।
তবে সিইবিআরের নির্বাহী পরিচালক এ কথাও বলেছেন, এগুলো শুধু সংখ্যাগত তথ্য-উপাত্ত। কীভাবে সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে পরিণত করা যায়, সেটা বিবেচনায় নিতে হবে। বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির যে কারণগুলো দেখানো হয়েছে, তার মধ্যে প্রধান একটি হচ্ছে, প্রবাসী আয়। কাঁচামাল আমদানির খরচ বাদ দিলে তৈরি পোশাক খাতের চেয়ে তিন গুণ বেশি নিট বৈদেশিক মুদ্রা আয় হচ্ছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স থেকে। সেই সত্তরের দশক থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বের ১৬২টি দেশে বাংলাদেশ থেকে প্রায় দেড় কোটি শ্রমিক গেছেন। তাঁদের অধিকাংশই গেছেন মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে।
অভিবাসন প্রক্রিয়া মেনে যাঁরা বিদেশে গেছেন, তাঁরা নিঃসন্দেহে ভাগ্যবান। কিন্তু সরকারের গৃহীত বিভিন্ন ব্যবস্থা সম্পর্কে না জেনেও বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন অনেকে এবং তাঁদের সংখ্যাই বেশি। শ্রমিকদের পাঠানো অর্থে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যেমন ঘটেছে, তেমনি বেঁচে আছে তাঁদের ওপর নির্ভরশীল লাখ লাখ পরিবার। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, এই প্রবাসী শ্রমিকদের অভিবাসন প্রক্রিয়াকে এখনো নিরাপদ করা যায়নি। এখনো অবসান হয়নি তাঁদের দুর্ভোগ ও বঞ্চনার।প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *